অতীত হয়ে যাওয়া একটা শতাব্দী,
অজস্র মায়া প্রেমের হাতছানি দেয় আজ অব্দি!
পেটের দায়ে দূর প্রবাসে কামলা খাটে পতি'
গায়ে ধূলো মাখা পত্নী নাড়ছে আউশধান।
হেন কালে বেড়ার ধারে, বেজে উঠে টুনটুন!
কাম ধাম তুইয়া, আঁচল খুলিয়া পাড়ল দৌড়-
চিঠি আছে আপনের, ডাক যোগে আইসাছে।
হৃদয় জুড়ায় গেল স্বস্তিতে মজে-
উবে গেইয়াছে গত্রের কাল ঘাম সহজে।
অশ্রু ফেলিতে ফেলিতে বসিল দেউড়িতে-
ন'দশ প্রহর পত্র খানা বুকে বাঁধিয়া ঢালছে আঁখি জল
করুন চাহনি কইছে কাটিয়াছে অপেক্ষার পাল।
খুলিয়া দেখে ভালোবাসার হস্তলিপি,
পত্নীর চোখে নাই পানি, যা ছিল সব গেছে ঝড়ি'
বুক তরতর করে কাঁপছে, আখিঁ ঘোলা!
ওগো আমার প্রিয়তমা! কতোকাল দেখি না,
আমার হৃদয় আর পরবাসে সয়ে না-
মন চায় ছুটে যাই তোমার পানে!
হেলানো চিবুক খানি ছুয়ে দেখি,
আমি জানি না গো কবে হবে শেষ।
খোদার হইলে কৃপা শেষমেষ'
গৃহে তুমি করো কতো কাম-
যতনে রাখিও তোমায়।
ওরে প্রেয়সী আমার হাত কাপঁছে আর পারিনে,
রইলো ভালোবাসা অশেষ!
আঁচল মেলিয়া মুছিলো চোখ, রইলো নির্বাক।
খোদার ইচ্ছা তিনি যা চায়-
আকাশ পানে চায়, হেমন্তের বক উড়িয়া যায়।
Comments
Post a Comment